একাডেমি পরিচিতি
ধর্ম, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সমাজকল্যাণ ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার জন্য একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশ বুদ্ধিষ্ট কালচারাল একাডেমী (বিবিসিএ) ইয়াং মেন্স বুড্ডিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ওয়াইএমবিএ), কুমিল্লার একটি মহাপ্রকল্প। ওয়াইএমবিএ ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরে নিবন্ধিত (নিবন্ধন নং Com/481/92)। দেশ-বিদেশের গবেষক, পণ্ডিত ও পর্যটকদের স্বাগত জানাতে একাডেমি সবসময় প্রস্তুত।
এটি শিক্ষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি, আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় নিবেদিত একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার ময়নামতির কোটবাড়ীতে ঐতিহাসিক শালবন বিহারের (অষ্টম শতক) পাশেই এর অবস্থান।
রাজধানী ঢাকা ও প্রধান বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মাঝামাঝি অবস্থিত কোটবাড়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রও। বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস, ট্রেন বা যেকোনো যানবাহনে গুগল ম্যাপস অনুসরণ করে আমাদের এখানে আসা যায়। আমাদের প্রাঙ্গণে নিরাপদ ও সুরক্ষিত ডরমিটরিতে থাকার ব্যবস্থা আছে (নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য)। এখানে এসে ময়নামতির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার ছড়িয়ে থাকা নিদর্শন এবং কাছের ময়নামতি প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের দুর্লভ প্রত্নসম্পদ উপভোগ করতে পারবেন।
- প্রতিষ্ঠা
- ওয়াইএমবিএ, ১৯৯১
- নিবন্ধন
- সমাজসেবা অধিদপ্তর, নিবন্ধন নং Com/481/92
- প্রাঙ্গণ
- দুটি প্লটে ২.২৮ একর
- অবস্থান
- কোটবাড়ী, ময়নামতি, কুমিল্লা
আমাদের ইতিহাস
প্রাচীনকালে এই অঞ্চলের নাম ছিল সমতট, আর বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও সভ্যতার ঐশ্বর্যে এটি ছিল সুবিখ্যাত। কথিত আছে, সপ্তম থেকে ত্রয়োদশ শতক পর্যন্ত খড়্গ, দেব, চন্দ্র ও পাল প্রভৃতি রাজবংশের প্রায় শতাধিক রাজা এখানে রাজত্ব করেছেন। ঐতিহাসিক শালবন মহাবিহার (অষ্টম শতক) এবং খননকৃত প্রায় ৫০টি বিহার এই অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে আছে।
কালের পরিক্রমায় এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভয়াবহ ধ্বংসের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবু তাদের জৌলুস ম্লান হয়নি, তাদের গৌরব আজও দীপ্তিমান। বৌদ্ধ বিহার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সেই মহিমা আজও আমাদের সমাজকে আলোকিত করে; এগুলো আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দুঃখের বিষয়, জ্ঞানচর্চার এই আলোকিত পীঠস্থানগুলো আমরা সংরক্ষণ করতে পারিনি, এসব প্রতিষ্ঠান থেকে উৎসারিত সম্পদ ও সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে পারিনি। জীবনের নানা ক্ষেত্রে আমাদের পিছিয়ে পড়ার এটি একটি কারণ।
বর্তমানে লালমাই পাহাড়ের দক্ষিণ দিকে ২৫টি বৌদ্ধগ্রাম বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে আছে, এবং বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২০ হাজার বৌদ্ধ যুগ যুগ ধরে অন্যান্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে বসবাস করছেন। তাঁদের বেশিরভাগই সিংহ পদবিধারী এবং থেরবাদী বৌদ্ধধর্মের অনুসারী। এ ভূখণ্ডের প্রাচীন বৌদ্ধ ঐতিহ্যের মহিমান্বিত উত্তরাধিকার তাঁরাই বহন করছেন। তবে এ জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আজও জ্ঞান, শিক্ষা, সংস্কৃতি, কর্মসংস্থান ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত, এবং দিন দিন আরও পিছিয়ে পড়ছেন।
তাই ১৯৯১ সালে প্রয়াত অ্যাডভোকেট ধীরসেন সিংহ (গান্ধী) এবং নিরলস কর্মী পরম পূজ্য শীলভদ্র মহাথেরের নেতৃত্বে কুমিল্লা ও নোয়াখালীর সমগ্র বৌদ্ধ সমাজ একটি ছাতার নিচে সংগঠিত হয়: ইয়াং মেন্স বুড্ডিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ওয়াইএমবিএ)। আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তৎকালীন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী প্রয়াত লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আকবর হোসেন, বীর প্রতীক-এর বদান্যতায় বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশ বুদ্ধিষ্ট কালচারাল একাডেমী প্রতিষ্ঠার জন্য ঐতিহাসিক শালবন বিহারের পাশে দুটি প্লটে ২.২৮ একর জমি আমাদের বরাদ্দ দেয়। ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বরে একাডেমির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
একাডেমি প্রাঙ্গণ
বাংলাদেশ সরকার ঐতিহাসিক শালবন বিহারের পাশে দুটি প্লটে ২.২৮ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে।
কোটবাড়ী-ময়নামতির এই অংশে এখন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেমন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), ময়নামতি জাদুঘর, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
একাডেমির জমির প্লট ১-এ আমাদের চলমান প্রকল্পগুলো অবস্থিত, যার সুফল সরাসরি পাচ্ছে অনেক দরিদ্র ও অসহায় শিশু। প্লট ২-এ আমরা একটি ছাত্রাবাস, একটি সহশিক্ষা ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়, একটি স্বাস্থ্য ক্লিনিক এবং একটি প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছি।
প্লট ১: চলমান প্রকল্প
- নব শালবন বিহার ও প্রার্থনা হল
- বিশ্ব শান্তি প্যাগোডা অনালয়ো
- শালবন বিহার অনাথালয়
- শালবন বিহার পাঠাগার
- শালবন বিহার গেস্ট হাউস
- ধর্মীয় বিদ্যালয়
- শ্রামণ ও ভিক্ষু প্রশিক্ষণ ও ধ্যান কেন্দ্র
- কিন্ডারগার্টেন স্কুল
বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ
দেশ-বিদেশের কূটনীতিক, পর্যটক ও পণ্ডিতরা প্রতিদিন আমাদের পবিত্র প্রাঙ্গণে আসেন এবং আনন্দিত ও মুগ্ধ হয়ে ফেরেন। ভারতের হাইকমিশনার মাননীয়া শ্রীমতী বীণা সিক্রি ও মাননীয় শ্রী প্রণয় ভার্মা এবং মাননীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী অনিন্দ্য চক্রবর্তীকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। জাপান, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারের হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতরাও এই পবিত্র প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছেন।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
-
গৌতম বুদ্ধের আদর্শে মৈত্রী, করুণা, মুদিতা ও উপেক্ষার গুণাবলি ধারণ করে সকল প্রাণীর কল্যাণে কাজ করা।
-
শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া তরুণদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
-
আন্তর্জাতিক সভা, সেমিনার ও সম্মেলনে অংশ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন বৌদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা।
-
সমাজের অবহেলিত, দরিদ্র, দুস্থ ও অনাথ শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা।
-
নবদীক্ষিত শ্রামণদের জন্য ভিক্ষু প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করা, যেখানে বুদ্ধের শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞার আদর্শে তাঁদের ভিক্ষুজীবন গড়ে ওঠে।
-
বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া কুমিল্লা অঞ্চলের প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা।
-
কুমিল্লাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন বৌদ্ধ নিদর্শন নিয়ে দেশি-বিদেশি পণ্ডিত ও গবেষকদের কাজে সহায়তা করা।
-
স্বাস্থ্য ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এলাকার দরিদ্র, দুস্থ ও প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া।
প্রকাশনা
একাডেমির “শালবন” স্মরণিকা সিরিজসহ বিভিন্ন স্মরণিকা ও স্মারকগ্রন্থ।